কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আনছু মিয়ার বিরুদ্ধে কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ দাবির অভিযোগ করেন স্থানীয় কৃষক মাসুদ মিয়া। তবে অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত নেতা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে মাসুদ মিয়া অভিযোগ করেন, বন্যায় তাঁর প্রায় ৯০ শতাংশ জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সহায়তার কার্ড পেতে নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, কার্ড দেওয়ার বিনিময়ে তাঁর কাছে টাকা চাওয়া হয়েছিল।
এদিকে রোববার ইউনিয়ন পরিষদে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা ত্রাণ এবং নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
এসময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কিন্তু সহায়তা পাইনি এমন ইউনিয়নের একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই সহায়তা পাননি, অথচ ক্ষতিগ্রস্ত নন এমন কিছু ব্যক্তির নাম তালিকায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আনছু মিয়া বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
বলাইশিমুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইদ্রিছ আলী তালুকদার জানান, ইউনিয়নে ৮৩৫টি কার্ড বরাদ্দ এলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সবাইকে সহায়তার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাতুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় ৮ হাজার ৯৩৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা পাঠানো হলেও বরাদ্দ এসেছে ৪ হাজার ৯৩৯ জনের জন্য। ফলে প্রায় ৪ হাজার কৃষক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল শাহা জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও কৃষি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছিল। বরাদ্দের স্বল্পতার কারণে অনেক প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

