মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর গ্রামের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই চাঁদাবাজি, ধর্ষণচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে মামলা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে শিবচর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। মামলায় এক সাংবাদিকসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৫ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এতে নিরীহ পরিবারগুলো হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২০ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাদিরপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ডিগ্রীরচর এলাকায় স্থানীয়রা সেলিনা আক্তার ও শাহিন শিকদারকে একটি নির্জন স্থানে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে আটক করেন। পরে তাদের স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য নূরুল ইসলাম ঢালীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পরপরই শিবচর থানা পুলিশকে বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে রাত ২টার দিকে স্থানীয় যুবক শুভ ঢালী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুমেও অবহিত করেন সাংবাদিক মীর মফিজুল ইসলাম ইমরান।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ৩টার দিকে শিবচর থানার এসআই ইব্রাহিম খলিল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের থানায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে রাত ৪টার দিকে কাদিরপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্বাস আলীর উদ্যোগে সেলিনা আক্তার ও শাহিন শিকদারকে তাদের স্বজনদের জিম্মায় বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার পরদিন ২১ মে সেলিনা আক্তার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর এসআই আমিনুল ইসলাম গভীর রাতে শুভ ঢালীর বাড়িতে গিয়ে দরজায় আঘাত করেন। তবে দরজা না খোলায় তিনি সেখান থেকে চলে যান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, ঘটনার আট দিন পর কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই একজন সাংবাদিকসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা গ্রহণ করা হয়। মামলায় সাংবাদিক মীর মফিজুর রহমান ইমরানসহ স্থানীয় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক মীর মফিজুর রহমান ইমরান বলেন, “মামলার বিষয়ে জানতে আমি ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির চাপের কারণে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। আপনি হাজির হয়ে আসেন পরে বিষয়টি দেখবো। এই মামলার অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই আমাকে এবং কয়েকটি নিরীহ পরিবারকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমি জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, “মামলাটি গ্রহণের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে চাপ ছিল। ভুক্তভোগী নারীও সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সে কারণে মামলাটি নেওয়া হয়েছে। তবে মামলার বাদীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।”
অন্যদিকে মামলার বাদী সেলিনা আক্তার দাবি করেন, তাকে মারধর করা হয়েছে। এ কারণেই তিনি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

