সদরপুর উপজেলা(ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
অপরাধী শনাক্তে ও অপরাধ দমনের জন্য গত ২০২২ ইং সালে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার উপজেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন সড়ক, উপজেলা সদরের প্রবেশ পথ ও প্রস্থানের রাস্তা সমুহে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন মোড়ে সদরপুর থানা পুলিশের উদ্যোগে উন্নত মানের ৭৮টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে দেখ ভালের অভাবে, নজরদারীর অভাবে, জনবলের অভাবে এসব সিসি ক্যামেরা এখন পরিত্যাক্ত্য অবস্থায় রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষ্ণপুরের মোড়, কলেজ মোড়, সদরপুর হাসপাতাল মোড়ে, কালিখোলার মোড়, আটরশি দরবার শরীফের মোড়,ভাংগা উপজেলা ও সদরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা বাইশ রশির মোড় সহ উপজেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন সরকারী অফিস সমুহের সামনে এসব সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল।
এসব সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রন ছিল সদরপুর থানায় ডিউটি অফিসারের কক্ষে। বড় মনিটরে এসব ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত ও নজরদারী হতো। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে আওয়ামী সরকারের পতন হলে সারাদেশের ন্যায় সদরপুর থানায় বিক্ষুদ্ধ জনতার হামলায় থানা ভাংচুর ও লুটপাটের সময় সিসি ক্যামেরার যন্ত্রপাতি ও মনিটর ভাংচুর হলে তখন থেকেই মুলত সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রন ও কার্য্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় ফলে নিস্ক্রিয় হয়ে পরে অপরাধী শনাক্ত ও অপরাধ দমনের কার্য্যক্রম৷
এ ব্যাপারে সদরপুর উপজেলা সদরের ব্যাবসায়ী সৈয়দ প্লাজার স্বতাধিকারী সৈয়দ কামরুজ্জামান লিটন বলেন, ফরিদপুর জেলা পুলিশের সহায়তায় সদরপুর থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ সুব্রত গোলদার এসব সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে উপজেলার অপরাধ দমনে এক ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহন করেছিলেন। তিনি আরো বলেন, একটা সময় উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থান হতে মোটর সাইকেল চুরি হইতো। সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কারনে সেসময় মোটর সাইকেল চুরি অনেকটা কমে আসে। বর্তমান অফিসার ইনচার্জ আবার এসব ক্যামেরা চালু করলে উপজেলার অপরাধ দমন, অপরাধী শনাক্ত সহজ হবে৷
আরেক ব্যাবসায়ী আদেল উদ্দিন হাওলাদার মার্কেটের পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অপরাধীদের আনাগোনা অনেকটা কমে এসেছিল,সেই সাথে উপজেলা সদররের ব্যাবসায়ীরা অনেকটা নিশ্চিন্তে ছিল। এসব সিসি ক্যামেরা পুনরায় চালু করলে অপরাধ দমন ও অপরাধী সনাক্তে সহায়ক হতো।
এছাড়াও উপজেলা সদরের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন মোড়ে সিসিক্যামেরার নিয়ন্ত্রন থাকায় অপরাধীদের আনাগোনা অনেকটা নিয়ন্ত্রিত ছিল বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল ও উপজেলা সদরের ব্যাবসায়ীরা মনে করেন সিসি ক্যামেরা গুলো পুনরায় চালু করলে একদিকে যেমন উপজেলা সদররের ব্যাবসায়ীরা উপকৃত হতো অন্যদিকে অপরাধী শনাক্তে ও সার্বক্ষনিক নাগরিক নিরাপত্তা জোরদার হইতো।
এ ব্যাপারে সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সুকদেব রায় বলেন, সিসি ক্যামেরা পুনরায় চালু করার ব্যাপারে জেলার উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা চলছে। আশাকরি পুনরায় আবার অপরাধ দমন ও অপরাধী সনাক্তে এসব সিসি ক্যামেরা শীঘ্রই চালু করার ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

