সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানের একটি নামি ব্র্যান্ডের সালোয়ার-কামিজ ও কারুকাজ খচিত ওড়না পরা আলিয়া ভাটের কিছু ছবি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে আলিয়াকে এতটাই অপার্থিব সুন্দর দেখাচ্ছে যে, অনেকেই মনে করেছিলেন রণবীর-ঘরনি হয়তো এবার সীমান্তের ওপারে কোনো পাকিস্তানি ব্র্যান্ডের শুভেচ্ছা দূত (ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর) হয়েছেন। কিন্তু ছবিগুলোর পেছনের সত্য সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
প্রথম নজরে ছবিগুলোকে আলিয়ার ফটোশুট মনে হলেও নেটিজেনরা গভীর পর্যবেক্ষণে বের করে এনেছেন আসল রহস্য। জানা গেছে, এগুলো বাস্তবের কোনো ছবি নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’-এর নিখুঁত কারসাজি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে অন্য একজন মডেলের শরীরে আলিয়ার মুখ বসিয়ে এই বিজ্ঞাপনগুলো তৈরি করা হয়েছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই আলিয়ার ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাঁদের দাবি, কোনো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড একজন প্রথম সারির অভিনেত্রীর অনুমতি ছাড়া তাঁর ছবি বা অবয়ব এভাবে বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে না। অনেক অনুরাগী আলিয়াকে ট্যাগ করে লিখেছেন, “ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে আলিয়ার কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
একদল অনুরাগী প্রযুক্তির এমন উৎকর্ষের প্রশংসা করে বলছেন, ছবিতে আলিয়াকে রাজকীয় শাহজাদীর মতো দেখাচ্ছে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ নেটিজেন মনে করছেন, সৃজনশীলতা যাই থাকুক না কেন, অনুমতি ছাড়া ডিজিটাল অবয়ব ব্যবহার করা ‘পেশাদারিত্বের পরিপন্থী’ এবং এটি একটি অপরাধ।
উল্লেখ্য, আলিয়া ভাটই প্রথম নন; এর আগে অমিতাভ বচ্চন, ঐশ্বর্য রাই, অভিষেক বচ্চন এবং কার্তিক আরিয়ানও এমন ‘এআই’ বিড়ম্বনার শিকার হয়েছিলেন। তবে তাঁরা প্রত্যেকেই আইনিভাবে নিজেদের ‘পারসোনালিটি রাইটস’ (ব্যক্তিত্বের অধিকার) সংরক্ষণ করেছেন। ফলে বিনা অনুমতিতে তাঁদের কণ্ঠ বা অবয়ব ব্যবহার করা দণ্ডনীয়।
এখন দেখার বিষয়, নিজের এই ডিজিটাল অবয়ব অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আলিয়া ভাট আইনি পথে হাঁটেন কি না।

