২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় তুলেছে ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের এই ঐতিহাসিক জয়ের পর থেকেই ফিলিস্তিনজুড়ে, বিশেষ করে অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় বইছে আনন্দের বন্যা।
চলমান রাজনৈতিক সংকট ও ধ্বংসস্তূপের মাঝেও গাজার হাজার হাজার মানুষ স্পেনের এই জয়কে নিজেদের জয় হিসেবে উদযাপন করছেন।
ফুটবলীয় শ্রেষ্ঠত্বের পাশাপাশি গাজাবাসীর এই অভূতপূর্ব উল্লাসের পেছনে রয়েছে গভীর ভূরাজনৈতিক ও মানবিক কারণ:
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি: ২০২৪ সালের মে মাসে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বে স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্পেনের সাহসী ভূমিকা ফিলিস্তিনিদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
খেলোয়াড় ও কোচের সংহতি: স্পেন জাতীয় দলের উদীয়মান তারকা লামিনে ইয়ামাল এবং স্প্যানিশ ফুটবল ব্যক্তিত্ব পেপ গার্দিওলাসহ একাধিক ক্রীড়াবিদ বিভিন্ন সময় গাজার নিপীড়িত মানুষের প্রতি প্রকাশ্য সংহতি প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক বার্তা: ফাইনালের আগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে আর্জেন্টিনার পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করায় গাজাবাসীর কাছে স্পেনের এই জয় কেবল মাঠের সাফল্য নয়, বরং একটি প্রতীকী প্রতিবাদ ও বিজয়ে রূপ নিয়েছে।
গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাবসহ বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের চরম প্রতিকূলতার মাঝেও হাজার হাজার মানুষ বড় পর্দায় বা প্রজেক্টরে ম্যাচটি উপভোগ করেন। স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোলটি আসার সঙ্গে সঙ্গেই উদযাপনে ফেটে পড়েন তারা।
ফাইনাল ম্যাচ শেষে গাজার রাস্তায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পতাকা হাতে উল্লাস করতে এবং একে অপরের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা যায়। গাজার পঙ্গু ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে যারা ফিলিস্তিনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, তাদের এই জয় গাজাবাসীকে ক্ষণিকের জন্য হলেও দুঃখ-কষ্ট ভুলিয়ে নতুন আশা জুগিয়েছে।

