(রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের পীরগাছায় দীর্ঘদিন থেকে কৈকুড়ী ইউনিয়নের ঘাঘট, ছাওলা ইউনিয়নের তিস্তা ও বুড়াল নদীর বিভিন্ন স্থানে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের হিড়িক। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ড্রেজার ও ট্রাকের দৌরাত্ম্য। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে ভাঙন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক তবুও থেমে নেই অবৈধ এ কর্মকাণ্ড। ফলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে নদীর চর ও পাড় কেটে বালু তুলছে। একাধিকবার অভিযোগ করেও স্থায়ী উদ্যোগ না থাকায় চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
“উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য”
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেন,“নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন আমরা কোনোভাবেই অনুমোদন দিই না। অভিযোগ পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। নতুন করে যদি কোথাও এমন কার্যক্রম চলছে অবশ্যই তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, পরিবেশ ও নদী রক্ষায় প্রশাসন সব সময় সক্রিয়।
“ওসির বক্তব্য”
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া জানান“নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের কোনো অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। এলাকায় আমাদের বাড়তি টহল রয়েছে। কারও বিরুদ্ধে আইন ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।”
তিনি স্থানীয়দেরও অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
“স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য”
স্থানীয় মাষ্টার পাড়া এলাকার মো. আব্দুল আজিজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“বালু তোলার কারণে আমাদের জমির পাড় ভেঙে যাচ্ছে। রাস্তা নষ্ট হচ্ছে ট্রাকের চাপে। আমি বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি এখনো কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না।
“সচেতন মহলের দাবি”
সচেতন মহলের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। না হলে নদী, পরিবেশ ও জনজীবন ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে।

