নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তির সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তারা পতিত স্বৈরাচারের দোসর।”
আজ (শুক্রবার) সকালে নেত্রকোণা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। যারা এই নির্বাচনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তারা অতীতে স্বৈরাচারের সহযোগী ছিল। কেউ হয়তো পূর্বাচলের প্লট পেয়েছেন, কেউ বা অন্যভাবে সুবিধা নিয়েছেন।”
চব্বিশের জুলাইয়ের পর কিছু সহিংসতা ঘটেছে স্বীকার করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে মব ভায়োলেন্স নতুন কিছু নয়। তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।”
সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, “মফস্বল সাংবাদিকরা দিনরাত খেটে সংবাদ সংগ্রহ করেন। জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো তাদের ফুটেজ ব্যবহার করে ইউটিউব ও সামাজিক মাধ্যমে আয় করছে, কিন্তু সাংবাদিকদের প্রাপ্য স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। শুধু আইডি কার্ড ধরিয়ে দিয়ে বলা হয়— ‘যাও, করে খাও’। এই বাস্তবতা বদলাতে সাংবাদিকদেরই সোচ্চার হতে হবে।”
একই সভায় তিনি আরও বলেন, “আলী রিয়াজকে নিয়ে যারা মিথ্যাচার করেছে, তাদের উচিত জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া। ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।”
টকশোগুলোর সমালোচনা করে প্রেস সচিব বলেন, “অনেকে টকশোতে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলেন। আবার চ্যানেলগুলো জানার পরও তাদের আমন্ত্রণ জানায়। সেনাবাহিনী, উপদেষ্টা ও জাতীয় ইস্যু নিয়েও প্রতিদিন মিথ্যাচার হচ্ছে— এটি দুঃখজনক।”
পরে তিনি আইটিএস নেত্রকোণার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের দেওয়া সংস্কার সংক্রান্ত স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন, বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
শেষে শহরের মোক্তারপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন জুলাই স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মোহাম্মদ শফিকুল আলম।

