মোঃ সায়েদুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় রাইজিং গ্রুপের পপুলার প্যাকেজ অ্যান্ড এক্সেসোরিজ লিমিটেডে ডাকাতির ঘটনায় মালামালসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সাটুরিয়া থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে লুণ্ঠিত মালামাল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে কারখানার কর্মচারীরা খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়লে আনুমানিক রাত আাড়াইটার সময় ২০-২৫ জন মুখোশধারী ডাকাত নিরাপত্তা প্রাচীর টপকে ফ্যাক্টরির প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্রের মুখে কারখানার কর্মচারীদের হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং ফিনিশিং ফ্লোরে থাকা ডাইং পলিব্যাগ ও নগদ টাকা লুট করে একটি পিকআপে করে পালিয়ে যায়।
রাত ৪টা ২০ মিনিটের দিকে এক কর্মচারী ঢাকায় অবস্থানরত ফ্যাক্টরির ম্যানেজার মো. সাহেব আলীকে ফোন করে বিষয়টি জানালে কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পরে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সুজন সরকার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মানিকগঞ্জ সদর সার্কেল) সালাউদ্দিন রাব্বির সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, সাটুরিয়া থানার ওসি মানোবেন্দ্র বালো ও ওসি (তদন্ত)সহ একাধিক পুলিশ সদস্য অংশ নিয়ে
পাবনার চাটমোহর থেকে শরীফকে গ্রেফতার করা হয়, যার কাছ থেকে লুণ্ঠিত দুটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত মো. লাল চান (৪১), মো. রাসেল ওরফে আলামিন (২৬), মো. মোকাদ্দেছ (৬১), হৃদয় হাসান (১৯), মো. কাউছার (২৬), মো. জাহাঙ্গীর আলী (২৫), জাহিদ হাসান (৩৫), মো. আবু সাইদ (৫০), স্বপন মিয়া (২০), সাজেদুল শেখ (৩৫) ও লিয়াকত আলী (৫৪) কে গ্রেফতার করা হয়। এসময় গ্রেফতারকমতদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি পিকআপ, তিনটি ছ্যানদা, চাপাতি, চারটি কাটার, হ্যান্ড গ্লাভস, মুখোশ ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেফতারদের আদালতে উপস্থাপন করা হলে আসামি লিয়াকত আলী (৫৪) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এবিষয়ে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মানোবেন্দ্র বালো জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। শিগগিরই আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে মনে করেন।