মোঃ হুমায়ুন কবির, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
গৌরীপুর উপজেলার অন্তর্গত গৌরীপুর পৌরসভাটি ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বর্তমানে ‘ক’ শ্রেণির একটি পৌরসভা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রধান মন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
যদিও পৌরসভা নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়সূচি এখনো নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি, তবুও ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভায় এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নির্বাচনী আমেজ।সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বইতে শুরু করেছে হালকা নির্বাচনী হাওয়া।
ইতোমধ্যে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, সালাম আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনসংযোগ জোরদার করছেন। চায়ের দোকান, বাজার, অলিগলি থেকে শুরু করে সর্বত্রই এখন পৌর নির্বাচন নিয়ে চলছে আলোচনা। কে পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন, কার জনপ্রিয়তা কতটা—এসব নিয়েই সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনে প্রায় এক ডজন ব্যক্তি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং একটি ইসলামী রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতা নিজ নিজ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ইতোমধ্যেই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যেও কয়েকজন পরিচিত মুখ ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পরই নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। তবে তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে সক্রিয় হয়ে ওঠা প্রমাণ করছে, গৌরীপুর পৌরসভার নির্বাচন এবার বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে।
এদিকে সাধারণ ভোটাররা বলছেন, দলীয় পরিচয়ের চেয়ে তারা একজন সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধিকে বেছে নিতে চান, যিনি পৌরসভার উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবেন।
সব মিলিয়ে, আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার আগেই গৌরীপুর পৌরসভাজুড়ে নির্বাচনী আবহ তৈরি হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা ও নির্বাচন কমিশনের তফসিল প্রকাশের পর এই আমেজ আরও তীব্র হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন নাগরিকরা।

