চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “চরভদ্রাসনে এখন বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মাঝে এসে শুধু মিসকল দিয়ে যায়।”
পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চরভদ্রাসন উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭.৫ মেগাওয়াট। অথচ সকাল থেকে বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ২.৩৬ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অত্যন্ত কম হওয়ায় বাধ্য হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিড থেকে বিভিন্ন এলাকায় সীমিত পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এরই প্রভাব পড়েছে চরভদ্রাসন উপজেলায়। তবে এটি সাময়িক সমস্যা এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা যায়, চরভদ্রাসনের বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রধান উৎস ভাঙ্গা-২ ৩৩ কেভি ফিডার। এই ফিডারে স্ক্যাডা (SCADA) রিলে স্থাপন থাকায় এটি জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) থেকে সরাসরি পরিচালিত হয়। লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য ভাঙ্গা-২ ৩৩ কেভি লাইনটি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় বন্ধ রাখা হচ্ছে। ফলে চরভদ্রাসন ও পাশের সদরপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট তুলনামূলক বেশি হচ্ছে।
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলার সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. এনায়েত হোসেন বলেন, “বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ বরাদ্দ অনেক কম থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সাময়িক। বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হলে চরভদ্রাসনেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ সময় পর্যন্ত গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণের অনুরোধ করছি।”
এদিকে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন চরভদ্রাসনের বাসিন্দারা।

