মো আলম, বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ২ নং তারাছা ইউনিয়নের দুর্গম এক গ্রামের চিত্র এটা। এখানে স্কুলে যাওয়া মানেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড়ি দেওয়া।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ছোট্ট একটি কাঠের নৌকায় স্কুল ব্যাগ কাঁধে ৫-৬ জন শিশু। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে। পেছনে একজন বৈঠা বেয়ে নৌকা চালাচ্ছে। নদীর পানি ঘোলা, দুই পাশে গাছপালায় ঢাকা পাহাড়ি পাড়। বর্ষায় পানি বাড়লে এই নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র রাস্তা।
পড়ালেখার পথে প্রতিদিনের যুদ্ধ
তারাছা ইউনিয়নের এই গ্রামগুলোতে সড়ক নেই, ব্রিজ নেই। তাই স্কুল, বাজার, হাসপাতাল—সবকিছুর জন্য নৌকার উপরই নির্ভর করতে হয় গ্রামবাসীকে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে স্রোতের টান আর ঢেউয়ের কারণে নৌকা ডুবির আতঙ্ক সবসময় থাকে।
স্থানীয়রা জানান, ছোট ছোট বাচ্চারাও প্রতিদিন এই ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। অভিভাবকরা বলেন, “বৃষ্টি হলে বা নদীতে পানি বাড়লে স্কুল বন্ধ রাখতে হয়। ছেলেমেয়েদের পাঠাতে ভয় লাগে, কিন্তু পড়ালেখা বন্ধ করাও যায় না।”
গ্রামবাসীর দাবি, এখানে দ্রুত একটি ব্রিজ অথবা নিরাপদ ঘাট ও ইঞ্জিনচালিত নৌকার ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে শিশুরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারবে, ঝরে পড়ার হারও কমবে।
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড—কিন্তু তারাছার এই শিশুরা সেই মেরুদণ্ড শক্ত করতে গিয়ে প্রতিদিন নদীর সাথে লড়াই করছে।
প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর একটাই আকুতি: “আমাদের বাচ্চাদের জন্য নিরাপদ একটা রাস্তা করে দিন। যাতে নৌকার ঝুঁকি ছাড়াই ওরা ক্লাসে যেতে পারে।” “ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষার পথে তারাছার শিশুরা। নিরাপদ সেতু চাই।”

