মোঃ রওকত আলী, রংপুর প্রতিনিধি
বিভাগীয় শহর রংপুরের বিনোদন জগতের এক সোনালী অধ্যায়ের চিরতরে অবসান ঘটলো। দীর্ঘদিনের লোকসান এবং ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে চুক্তিবিরোধী অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বন্ধ হয়ে গেছে শহরের সর্বশেষ নিয়মিত সিনেমা হল ‘শাপলা টকিজ’।
শুক্রবার থেকে হলটির সকল প্রদর্শনী আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী এই বিভাগীয় শহরটি এখন পুরোপুরি সিনেমা হল শূন্য হয়ে পড়লো।শনিবার দুপুরে সিনেমা হল বন্ধের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হলটির দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপক শাহাবুদ্দিন।হলটির মালিকানা সূত্র থেকে জানা যায়, রংপুরের সাধারণ মানুষকে সুস্থ বিনোদন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালের ১৬ জুন ‘শাপলা টকিজ’ প্রতিষ্ঠা করেন আলহাজ্ব মাসুম মিয়া।
তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহে আলম হলটির শুভ উদ্বোধন করেছিলেন। প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুর পর প্রেক্ষাগৃহটি পরিচালনার দায়িত্ব নেন মন্টু মিয়া।তবে সময়ের বিবর্তনে প্রযুক্তির উৎকর্ষতা, মুঠোফোনের জনপ্রিয়তা এবং তীব্র দর্শক খরার কারণে হলটি চরম ব্যবসায়িক মন্দার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে ধারাবাহিক লোকসান ঠেকাতে নিরুপায় হয়ে হলটি চলচ্চিত্র প্রযোজক কামাল হোসেনের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়।হল মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সাইদুর রহমান সুমন জানান, ভাড়ায় চালিত হওয়ার পর হলটিতে চুক্তি ভঙ্গ করে অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করার গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
এতে প্রতিষ্ঠাতা ও হল মালিকের পরিবারের দীর্ঘদিনের সামাজিক মান-সম্মান ক্ষুণ্ন হয়। এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নিতে না পেরে মালিকপক্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন ‘রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একাধিকবার জরুরি বৈঠকে বসেন।
সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার থেকে হলটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়।এক সময় রূপালী পর্দার টানে সিনেমা প্রেমীদের ভিড়ে মুখরিত থাকতো রংপুর। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত রংপুরের প্রথম প্রেক্ষাগৃহ ‘মডার্ন হল’ বন্ধ হওয়ার পর এখানে একে একে গড়ে উঠেছিল শাপলা টকিজ, দরদী হল, ওরিয়েন্টাল, লক্ষ্মী টকিজ, নূর মহল, চায়না টকিজ ও সেনাহলসহ মোট ১০টি সিনেমা হল।
ব্যবসায়িক মন্দার কারণে বাকি ৯টি হল অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এবার সর্বশেষ টিকে থাকা শাপলা টকিজের পর্দা নামার মধ্য দিয়ে রংপুরের বাণিজ্যিক সিনেমা হলের ৪৬ বছরের ইতিহাসের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলো।

