ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সদ্য স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী অংকন কুণ্ডুর ঝুলন্ত মরদেহ রাজশাহীর নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অংকন কুণ্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি তিনি স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। আগামী ২২ আগস্ট তার লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
অংকনের বাবা অ্যাডভোকেট নরেন্দ্রনাথ কুণ্ডু জানান, দুই দিন আগে ছেলে বাড়িতে ফিরেছিলেন। শুক্রবার রাতে পরিবারের সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানোর পর একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে নিজ কক্ষে গেলে কিছু সময় পর তার বড় ভাই তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, রাতের খাবার খাওয়ার সময় কোনো অস্বাভাবিকতা বোঝা যায়নি। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে এমন ঘটনা ঘটবে, তা পরিবারের কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
সহপাঠীদের ভাষ্য, মাত্র দুই দিন আগেও অংকন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিলেন। স্নাতকোত্তর শেষ করে বিদায় নেওয়ার পর এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা তারা ভাবতেও পারেননি। তাদের কয়েকজনের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে অংকনকে কিছুটা বিষণ্ন মনে হচ্ছিল।
আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক বিলাসী সাহা বলেন, অংকন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি বিভাগীয় সুপারিশ নিয়েছিলেন এবং এ বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে বিভাগ গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ মানসিক চাপে থাকেন, হতাশায় ভুগেন বা আত্মহত্যার চিন্তা করেন, তবে একা না থেকে পরিবারের সদস্য, বিশ্বস্ত বন্ধু বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন। সময়মতো সহায়তা অনেক জীবন রক্ষা করতে পারে।

