ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং জ্বর হলে ঘরে বসে না থেকে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ডেঙ্গুর সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন না থাকায় সচেতনতা ও চারপাশ পরিষ্কার রাখাই এই রোগের প্রধান প্রতিষেধক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশার প্রজননস্থল মূলত বাসাবাড়ির ভেতর, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশে জমে থাকা পানি। তাই ফুলের টব, ড্রাম, এসি বা ফ্রিজের ট্রেতে যাতে টানা পাঁচ দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন জানান, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হতে হবে বাসাবাড়ি, বিদ্যালয় ও কর্মস্থল থেকে। রোগী দ্রুত শনাক্ত করা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং আক্রান্তদের সামাজিক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
জ্বর নিয়ন্ত্রণ: ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর হলে মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে দিতে হবে। ৬-৮ ঘণ্টা পরপর চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে।
পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ: ডেঙ্গু চিকিৎসায় মূল বিষয় হলো শরীরে তরলের সামঞ্জস্য রাখা। তাই পানি, ডাবের পানি, ওআরএস (ওরস্যালাইন), স্যুপ ও ফলের রস বেশি বেশি পান করতে হবে।
সরকারি হিসাব মতে, এ বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৬ জন। এর আগে ২০২৫ সালে দেশে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৪১৩ জন মারা যান।

