মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের রশুনিয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় ব্যয় না হওয়া ২৮ লাখ ৯১ হাজার ৫২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রশুনিয়া ইউনিয়নের রশুনিয়া খালের দানিয়াপাড়া ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে মোতার জাহান বাড়ির দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য ১০৭ জন শ্রমিকের বিপরীতে ওয়েজ ও নন-ওয়েজ খাতে মোট ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ২৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা হ্রাস করা। প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনের সংসদ সদস্য শেখ আব্দুল্লাহ। প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়মিত তদারকি করেন।
সূত্র জানায়, গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ খাল পুনঃখনন কাজ শুরু হয়ে ১৩ জুন ২০২৬-এর মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ০.৬০ কিলোমিটার খনন করা সম্ভব হয়। এ সময় নদীর জোয়ারের পানি বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টির কারণে বাঁধ ভেঙে খালে ৭ থেকে ৮ ফুট পানি প্রবেশ এবং এ কারণে এক্সক্যাভেটর পরিচালনা সম্ভব না হওয়াসহ পানিতে নেমে শ্রমিকদের অনাগ্রহের কারণে কাজ ব্যাহত হয়।
পরবর্তীতে উপজেলা তদারকি কমিটির সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে চলতি বছরের জন্য খাল খনন কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শন করে ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে সম্পন্ন কাজের পরিমাপ গ্রহণ করে।
প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি, এক্সক্যাভেটর ভাড়া, যন্ত্রপাতি, পানি সেচ, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ মোট ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় অব্যয়িত ২৮ লাখ ৯১ হাজার ৫২৫ টাকা সরকারি বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

