সত্যজিৎ দাস:
বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বিশাল আকৃতির অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জাগছড়া চা বাগানের ১৭ নম্বর সেকশনে কাজ করার সময় চা শ্রমিকরা অজগরটি দেখতে পান। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করে দেন।
পরে বিষয়টি জাগছড়া চা বাগানের বাবু সেলিম মিয়াকে জানানো হলে তিনি বনবিভাগ ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ এবং বনবিভাগের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে অজগরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
উদ্ধার করা অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ ফুট এবং ওজন প্রায় ৩০ কেজি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বপন দেব সজল বলেন,প্রয়াত সিতেশ বাবুর পুত্র হিসেবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের দায়িত্ব তিনি সবসময় গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে আসছেন। ব্যক্তিগত শোকের সময়েও প্রাণী সুরক্ষার দায়িত্ব থেকে সরে যাননি তিনি। বাবার দেখানো পথ অনুসরণ করে সকলের সহযোগিতায় বন্যপ্রাণী রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন,বিভিন্ন কারণে অজগরসহ বন্যপ্রাণী অনেক সময় লোকালয়ে চলে আসে। বনের ভেতরে প্রাকৃতিক খাদ্য সংকট দেখা দিলে সহজ শিকারের সন্ধানে তারা মানুষের বসতবাড়ি বা চা বাগানের আশপাশে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া বন উজাড়,আবাসস্থল সংকোচন,জলাশয় শুকিয়ে যাওয়া এবং প্রজননের জন্য নিরাপদ স্থান খোঁজার কারণেও বন্যপ্রাণী লোকালয়ে আসতে বাধ্য হয়।
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ জানান, উদ্ধার করা অজগরটি ভারতীয় অজগর (Python molurus) বা রক পাইথন প্রজাতির। এটি বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে সংরক্ষিত ও বিপন্ন প্রাণী হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন,শ্রীমঙ্গলের মিশ্র চিরহরিৎ বন, পাহাড়ি টিলা ও চা বাগানের ছায়াঘেরা ঝোপঝাড়ে এ ধরনের অজগরের দেখা পাওয়া যায়। এরা বিষধর নয় এবং সাধারণত মানুষের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করে না। বিপদ অনুভব করলে তারা আত্মরক্ষার চেষ্টা করে বা নিরাপদ স্থানে সরে যায়।
রাজদীপ দেব দীপ আরও বলেন,অজগর মূলত ওত পেতে শিকার করা প্রাণী। শরীরের শক্তিশালী পেশির মাধ্যমে শিকারকে নিয়ন্ত্রণ করে। এদের খাদ্য তালিকায় ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী,পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী রয়েছে। পাশাপাশি এরা ভালো সাঁতার কাটতে পারে এবং জলাশয়ের আশপাশে থাকতে পছন্দ করে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন,লোকালয়ে কোনো বন্যপ্রাণী দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে বনবিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠনকে খবর দেওয়া উচিত। এতে প্রাণী ও মানুষের উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

