স্টাফ রিপোর্টার:
সরকারি অর্থের সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন। উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর অব্যয়িত ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ৬২০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের লোহারটেক ব্রিজ থেকে শ্রীরামদী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এবং কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের দড়িকৃষ্ণপুর এলাকার কাটাখালী ব্রিজ থেকে ভূবেনেশ্বর নদ অভিমুখে প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়। মোট প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা, কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রায় তিন মাসব্যাপী খননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ পরিশোধের পর প্রকল্পের অব্যয়িত ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ৬২০ টাকা সরকারি বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-৪ (সদরপুর, ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। তাঁদের মতে, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার এ উদ্যোগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এজন্য তাঁরা সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুনাহারকে ধন্যবাদ জানান।
স্থানীয়দের মতে, খাল পুনঃখননের ফলে বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যারও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, “সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সঠিক অর্থ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। খাল পুনঃখনন প্রকল্পের সব কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করা হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি, পরিবহনসহ সব ধরনের বৈধ ব্যয় পরিশোধের পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, তা সরকারি বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, এর আগে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও খাল পুনঃখনন প্রকল্প শেষে অব্যয়িত ৭৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। সদরপুরের ঘটনাটি সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ধারাবাহিকতায় আরেকটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

