জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সম্প্রতি ভারতকে নতুন করে কূটনৈতিক চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে ভারতে পালিয়ে থাকা অন্য আসামিদের ফেরাতেও আলাদা আলাদা চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর রমনায় বিআইআইএসএস (BIISS) মিলনায়তনে এক সেমিনার শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
সাংবাদিকরা জানতে চান—এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে প্রত্যর্পণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল, আজ ট্রাইব্যুনালের তথ্যমতে দেওয়া এই চিঠিটি দ্বিতীয় দফার কি না?
উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন: “আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আইনে বিচার সম্পন্ন হয়েছে। যেহেতু তিনি একজন পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্য যেসব আইনি ও কূটনৈতিক চিঠি দেওয়া প্রয়োজন, আমরা ঠিক সেটাই দিয়েছি।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রটোকল অনুসরণ করেই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফেরত আনা হবে। ঠিক যেভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে, এটিও তারই অংশ।
চিঠিটি কবে পাঠানো হয়েছে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ জানান, চিঠিটি সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে এবং এটি কেবল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দিষ্ট করেই দেওয়া হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই আইনি উদ্যোগগুলো অব্যাহত রাখবে। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। দেশের মাটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার বিষয়ে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং দেশের জনগণও ঠিক সেটাই প্রত্যাশা করে।

