কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পুলিশের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে দুই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়িকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫১ পিস ইয়াবা, চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা, একটি ল্যাপটপ, একটি ডিভিআর, ৪৩ ইঞ্চি মনিটর, দুটি মোবাইল ফোন এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
গ্রেফকৃতরা হলেন, পৌরসভার বিদ্যুৎপাড়া (পশ্চিম নাগেশ্বরী) এলাকার আকবর আলীর ছেলে জালাল হোসেন জয় (৩৬) এবং চামটারপাড় এলাকার জাহানুর আলমের ছেলে আল মামুন শুভ (৩০)।
পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, সোমবার (১৩ জুলাই) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লা-হিল-জামান ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিদ্যুৎপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সন্দেহভাজন দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে জালাল হোসেন জয়ের কাছ থেকে ৩২ পিস এবং আল মামুন শুভর কাছ থেকে ১৯ পিসসহ মোট ৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ হাজার ৩০০ টাকা।
অভিযানে একটি ১২৫ সিসি ডিসকভার ও একটি ১৫০ সিসি ইয়ামাহা এফজেড-এস মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। এছাড়া একটি এইচপি এলিটবুক ল্যাপটপ, দুটি হাইভিশন ও দুটি ক্যামটেক ব্র্যান্ডের চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা, একটি হাইভিশন ডিভিআর, একটি ৪৩ ইঞ্চি মনিটর এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা স্বীকার করেছেন যে তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করতেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলাচল নজরদারিতে রাখতে বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে নিরাপদে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
এ ঘটনায় নাগেশ্বরী থানার এসআই (নিঃ) মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এফআইআর নং-১৫ ও জিআর নং-১৮২ (তারিখ: ১৪ জুলাই)। পরে গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (আব্দুল্লা-হিল-জামান) বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে নাগেশ্বরীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

