দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণ চলছে। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করার অভিযোগ ওঠেছে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে।
চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে গুরুতর ত্রুটি ও নতুন পরীক্ষা পদ্ধতির প্রতিবাদে রাজধানীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একটি অংশ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) দুপুরে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৮ দফা দাবি উত্থাপন করে প্রশাসনকে এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে দিনব্যাপী মহাসড়ক অবরোধ রাখার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের ৮ দফা দাবি সমূহ:
১. প্রশ্নপত্র ও পরীক্ষা পদ্ধতির ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা।
২. এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্কিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা গবেষণা বন্ধ করা।
৩. দেশব্যাপী অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান পরীক্ষা স্থগিত রাখা।
৪. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে গুরুতর ত্রুটির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।
৫. প্রশ্নপত্রের ত্রুটির কারণে বিজ্ঞান বিভাগের সব বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক ১৪ নম্বর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা।
৬. শিক্ষাব্যবস্থাকে শিক্ষার্থী-বান্ধব ও চাপমুক্ত করা।
৭. গত দুই বছরের নিয়মিত প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশ্নপত্রের মান উন্নয়ন করা।
৮. সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান।
ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ, সড়কে পুলিশ
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে চান না। তবে প্রশ্নপত্রের গুরুতর ত্রুটি ও ত্রুটিপূর্ণ পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সৃষ্ট সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই তাদের রাজপথে নামতে হয়েছে। তারা অবিলম্বে একটি শিক্ষার্থী-বান্ধব ও মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক সড়ক অবরোধের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অবস্থান নিয়েছেন। তবে সর্বশেষ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এই অবরোধ ও আন্দোলন চলছিল।

