কুমিল্লা প্রতিনিধি:
একের পর এক মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে স্মারকলিপি দিয়েও মিলছে না নিরাপত্তা! কুমিল্লা নগরীতে পেশাজীবী ও সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রর ওপর দীর্ঘ এক যুগ ধরে ধারাবাহিক হামলা, চক্রান্ত ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে একটি সুসংগঠিত অপরাধী চক্র। বর্তমানে এই সংবাদকর্মী ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রের সদস্যরা দিনের আলোতেই মুখে মাস্ক আর মাথায় হেলমেট পরে নাম্বার প্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে পুরো নগরীতে ঘুরে বেড়ায়। শুধু সাংবাদিক শুভ্রর ওপর হামলাই নয়, এই চক্রের বিরুদ্ধে ভুয়া প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে হ্যান্ডকাফ ও জ্যাকেট ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে অপহরণ ও জিম্মি করার মতো ভয়ংকর অপরাধের অভিযোগও রয়েছে।
এমনকি অনিবন্ধিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের বিকৃত ছবি ও লাশের প্রতীকী ছবি ছড়িয়ে দিয়ে অবিরত মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

সবশেষ সাংবাদিক শুভ্রর দায়ের করা একটি সিআর মামলার প্রেক্ষিতে কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত–১ কোতোয়ালি মডেল থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে এই চক্রের কয়েকজন সদস্য গ্রেপ্তার হলেও বাকি সহযোগীরা এখনো বাইরে রয়ে গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি আদালত থেকে জামিন পেয়েই আসামিরা পুনরায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য ভয়ংকর হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর কাছে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাঁদা না দিলে ভুয়া একতরফা মামলা দিয়ে তাঁকে ফাঁসানোর অগ্রিম ঘোষণাও দিচ্ছে এই চক্রটি।
একজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা এমন লাগামহীন ও প্রকাশ্য অপরাধের ঘটনায় কুমিল্লার স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দায়ের করা মামলা ও জিডির ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আসামিরা ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করায় তাদের ধরতে কিছুটা সময় লাগলেও এই ছদ্মবেশী অপরাধী চক্রের বাকি সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

