সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করা গেলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রতিবন্ধীবান্ধব সমাজ গঠনের একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
সোমবার (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ‘শিশুস্বর্গ মডেল’ বাস্তবায়নবিষয়ক পাইলট প্রকল্প প্রণয়নে অংশীজনদের পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘শিশুস্বর্গ’ নামে বিশেষায়িত কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রাথমিক চিকিৎসা ও থেরাপি নিশ্চিত করবেন এবং তাদের শিক্ষা ও পুনর্বাসন সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করবেন।
তিনি বলেন, সরকারি তথ্যভান্ডারে বর্তমানে প্রায় ৪৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির তথ্য রয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এ কারণে অন্তত এক কোটি মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সেবা ও অধিকার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। দয়া বা অনুদাননির্ভর নয়, বরং অধিকারভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
ড. মুহিত জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য পৃথক একটি বাস্তবায়ন কমিটিও কাজ করছে, যাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।
তিনি আরও বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ফল ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অর্ধেক বা বিনামূল্যে যাতায়াতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও প্রতিবন্ধীবান্ধব করার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবাপ্রদানকে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, জন্মের পর থেকে শিক্ষা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থান—জীবনের প্রতিটি ধাপে রাষ্ট্রের সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম, অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ রুমীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

