ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এ ঘোষণা বাস্তবে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং এটি মূলত রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার একটি কৌশল হতে পারে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ও তিনি দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারীর মতে, শেখ হাসিনার বক্তব্যকে এখনই বাস্তবসম্মত ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, দেশে ফেরার সময়সীমা স্পষ্ট করা হয়নি এবং অতীতেও এমন ঘোষণা বাস্তবে রূপ নেয়নি। তাই বিষয়টিকে তিনি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন।
ড. নুরুল আমিনের ভাষ্য, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনার দেশে ফিরে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও আওয়ামী লীগের আগের মতো সমর্থন নেই, ফলে দেশে ফেরা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক শক্তিগুলো একত্রিত হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সক্রিয় হওয়ার সুযোগও সীমিত থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে দলের অনেক নেতাকর্মী আন্দোলনের চেয়ে ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পদের দিকে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েছেন। ফলে শেখ হাসিনার আহ্বানে ব্যাপক রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা যাবে—এমন সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।
একই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরেক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলামও বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে তিনি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার সম্ভাবনা খুবই কম। বরং এ ধরনের বক্তব্য দলের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। তাই বাস্তবে তিনি দেশে ফিরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই অধ্যাপক।

