দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুর পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট খনিতে আবারও ৫২ দিন পর পাথর উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে পূর্ণোদ্যমে খনির উৎপাদন কার্যক্রম চালু করা হয়। এতে খনির শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, গত ১৭ মে সকাল থেকেই পাথর খনির ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত বিস্ফোরক দ্রব্য অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-এর মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পাথর উত্তোলন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক আমদানিতে বিলম্ব হওয়ায় টানা ৫২ দিন উৎপাদন বন্ধ ছিল। সম্প্রতি বিস্ফোরক খনিতে পৌঁছানোর পর শনিবার থেকে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন। তিনি জানান, বিস্ফোরক দ্রব্যের সংকটের কারণে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে শনিবার সকাল থেকে আবারও পূর্ণমাত্রায় পাথর উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খনিতে ইতোমধ্যে ৮৮ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট পৌঁছেছে, যা দিয়ে প্রায় আড়াই মাস উৎপাদন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে। খনির মোট চাহিদা প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন বিস্ফোরক দ্রব্য। অবশিষ্ট বিস্ফোরকও পর্যায়ক্রমে খনিতে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সময়মতো বিস্ফোরক সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারায় অতীতেও একাধিকবার মধ্যপাড়া গ্রানাইট খনিতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বিস্ফোরক সংকটের কারণে ২০২২ ও ২০২৫ সালেও খনিতে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এছাড়া বিস্ফোরকের অভাবে ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার ঘটনাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা খনি মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড ২০০৭ সালের ২৫ মে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে তিন শিফটে প্রায় সাড়ে ৭০০ শ্রমিক খনিতে কর্মরত রয়েছেন।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খনির পরিচালনায় নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি -এর সঙ্গে ছয় বছরের জন্য নতুন চুক্তি করে খনি কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিস্ফোরক সংকট কাটিয়ে উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আশাবাদী খনি কর্তৃপক্ষ।

