২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মিশরের যাত্রা শেষ হয়েছে শেষ ষোলোর নাটকীয় ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে। তবে পরাজয়ের পরও দেশে-বিদেশে ফুটবল প্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে মিশরের লড়াকু মানসিকতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে কায়রোর রাস্তাঘাট—সবখানে একটাই সুর, “তারা হারেনি, তারা ইতিহাস গড়েছে।”
বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে মিশর যে সাহসী ফুটবল উপহার দিয়েছে, তা সমর্থকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। শেষ মুহূর্তে ম্যাচ হাতছাড়া হলেও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে কটূক্তি নয়, বরং অভিনন্দন আর কৃতজ্ঞতার বার্তাই বেশি দেখা গেছে।
ম্যাচ শেষে কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়া ও দেশের বিভিন্ন শহরে হাজারো সমর্থক জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে আসেন। কেউ কেউ চোখের জল লুকাতে পারেননি, আবার অনেকে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে স্লোগান দিয়ে বলেন, “তোমরা আমাদের গর্ব।”
বিশেষ করে অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহকে ঘিরে ছিল আবেগঘন দৃশ্য। অনেক সমর্থকের মতে, পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং লড়াইয়ের মানসিকতা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য পোস্টে লেখা হয়েছে, “সালাহ কাপ জিততে পারেননি, কিন্তু তিনি একটি জাতির সম্মান জিতেছেন।”
বিশ্বকাপ শুরুর আগে খুব কম মানুষই মিশরকে নকআউট পর্বে দেখার আশা করেছিলেন। কিন্তু গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলটি সবাইকে চমকে দেয়। শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে শৃঙ্খলাপূর্ণ রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং দলগত ফুটবল মিশরকে অন্যতম আলোচিত দলে পরিণত করে।
তবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের পর আলোচনার বড় অংশ জুড়ে ছিল রেফারিং এবং ভিএআরের বিতর্ক। অনেক সমর্থকের বিশ্বাস, কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ভিন্ন হলে ম্যাচের ফলও ভিন্ন হতে পারত। এজন্য হতাশা থাকলেও বেশিরভাগ সমর্থক খেলোয়াড়দের দায়ী করেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশ্বকাপে মিশর শুধু একটি দল হিসেবে নয়, বরং আফ্রিকান ফুটবলের নতুন শক্তি হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া এই দল ভবিষ্যতের জন্য বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #ThankYouEgypt, #ProudOfEgypt এবং #HeroesOfEgypt-এর মতো হ্যাশট্যাগ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অনেক নিরপেক্ষ ফুটবল সমর্থকও মিশরের সাহসী ফুটবলের প্রশংসা করেন এবং দলটির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
ম্যাচ শেষে কয়েকজন খেলোয়াড়কে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেলেও স্টেডিয়ামে উপস্থিত মিশরীয় সমর্থকেরা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে দলকে বিদায় জানান। সেই দৃশ্য অনেকের কাছেই ছিল পুরো বিশ্বকাপের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি।
বিশ্বকাপের ট্রফি জেতা হয়নি, কিন্তু এই আসরে মিশর যেভাবে নিজেদের মেলে ধরেছে, তা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পরাজয়ের রাতেও কোটি সমর্থকের হৃদয়ে তারা বিজয়ীর মর্যাদাই পেয়েছে।

