ক্রাইম রিপোর্টার:
রংপুর সদর উপজেলার সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যয় না হওয়ায় সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, বরাদ্দ বাস্তবায়নে গাফিলতি এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত পরিচালন বাজেটের আওতায় রংপুর সদর উপজেলার সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য “অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা” খাতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়। গত ৬ মে বরাদ্দ অনুমোদনের পর ৩০ জুনের মধ্যে সংস্কারকাজ সম্পন্ন এবং অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বরাদ্দ পাওয়া সাতটি বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র একটি বিদ্যালয়ে সীমিত আকারে কিছু কাজ হয়েছে। বাকি ছয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, বরাদ্দের অর্থ না পাওয়ায় কোনো কাজই শুরু করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম দাবি করেছেন, কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বিল পরিশোধ করা হয়নি। বরাদ্দের অর্থ আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত রয়েছে।
এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, মো. শাহীনুর আলম ও আবু মোত্তালেব মোহাম্মদ আব্দুল মতিন সিন্ডিকেট করে এই বরাদ্দের সিংহ ভাগ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এবং তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যকর তদারকি নিশ্চিত হলে বিদ্যালয়গুলোর সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো। লেখাপড়ার মান ফিরে আসতো। আগে তো স্থানী লোকজন কমিটিতে ছিলে। স্কুল গুলো ভাল চলতো। এখনতো সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের হডহক কমিটির সভাপতি করে স্কুল গুলো চলছে। সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকরাতো সব বরাদ্দ আত্মসাৎ নেশায় মেতে আছে।
নাম প্রকাশে এক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য বলেন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা তো এখন সভাপতি। বিদ্যালয়ে তারা আসেও না। মাসিক মিটিং করা কথা থাকলেও তা পরিচালনা করা হয় না। বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ হলে তার একটি অংশ তারা অফিসে বসে থেকে নিয়ে নেয়। প্রধান শিক্ষক সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অংশ তাদের দিয়ে অফিসে গিয়ে অডিট খাতায় সহ সব কিছুতে স্বাক্ষর নিয়ে আসে। খাই খাই একটা ব্যাপার চলছে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষদের মধ্যে।
বরাদ্দপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলো হলো—কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ অযোদ্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চক ইশাবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাক্ষী ফান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিলিমপুর শিশু মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং খোর্দ তামপাট সরদার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

