সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আগামী ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। শনিবার (৪ জুলাই) রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মিলনায়তনে রংপুর বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতিতে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনাগুলোও তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানান, এ কার্ড সংগ্রহের জন্য সাধারণ মানুষকে কোনো দপ্তরে যেতে হবে না। সরকারের প্রশিক্ষিত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন। পরে সেই তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই করে নির্ধারণ করা হবে কারা এ কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সহায়তা এখন সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। একইভাবে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় দেওয়া অর্থও ব্যাংকের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে, ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ প্রতিবন্ধী। বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী রয়েছেন, যাদের দক্ষ জনসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে ৪৫টি মোবাইল থেরাপি ইউনিট সেবা দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৮৫টি নিবন্ধিত এবং ৭৫টি এমপিওভুক্ত। এছাড়া চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০টি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছে মন্ত্রণালয়। ভবিষ্যতে প্রতিটি জেলায় একটি করে মানসম্মত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে।

