মোঃ রেজাউল হক শাকিল, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা)প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণপাড়া সড়কের সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাটেরা এলাকার বেগম রোকেয়া হাসপাতালের পাশে সড়কের পশ্চিম পাশে দুটি বিশাল মরা গাছ এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গাছ দুটির ডালপালা মরে কঙ্কালসার হয়ে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর হেলে থাকায় প্রতিদিন চরম আতঙ্কের মধ্যে যাতায়াত করছেন এই সড়কে চলাচলকারী হাজারো যাত্রী, চালক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। যেকোনো মুহূর্তে গাছ দুটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের বড় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যস্ততম এই সড়কের ঠিক পাশেই বিশালাকৃতির দুটি রেনট্রি কড়ই গাছ সম্পূর্ণ মৃত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। গাছ দুটির ওপর দিয়ে চলে গেছে পল্লী বিদ্যুতের উচ্চ ক্ষমতার মেইন লাইনসহ অসংখ্য তার। শুষ্ক ডালপালাগুলো বিদ্যুতের লাইনের সাথে এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে, সামান্য ঝড়-বৃষ্টি বা বাতাসে এগুলো ভেঙে পড়লে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়সহ বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণেই আজ এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই গাছ দুটি আগে সতেজ ছিল। কিন্তু পল্লী বিদ্যুতের লোকেরা লাইনের তার পরিষ্কার করার নামে গাছের ডালপালা এমনভাবে ছাটিয়েছে যে গাছ দুটি শেষ পর্যন্ত মরেই গেছে। এখন এই মরা গাছ দুটো যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। তার ওপর আবার মাথার ওপরে বিদ্যুতের তার জড়ানো। এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে বুক কাঁপে।”
গাছের একদম পাশেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সারাক্ষণ আতঙ্কে দিন কাটে ব্যবসায়ীদেরও। স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, “আমরা দোকানে বসে শান্তিতে ব্যবসা করতে পারি না। সবসময় মাথার ওপরে একটা আতঙ্ক তাড়া করে। একদিকে বিশাল মরা গাছ ভেঙে পড়ার ভয়, অন্যদিকে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের চিন্তা। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।”
মার্কেটের মালিক অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম খান তাঁর অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, “গাছগুলো সরকারি জায়গায় হওয়ায় আমরা চাইলেও আইনি জটিলতার কারণে এগুলো কেটে অপসারণ করতে পারছি না। অথচ চোখের সামনে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। সরকার যদি দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে গাছগুলো কেটে ফেলে, তবেই এখানকার মানুষ শান্তিতে শ্বাস নিতে পারবে।”
এই জনদুর্ভোগ ও আশঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, “বিষয়টি ইতিমধ্যে আমার নজরে এসেছে। গাছ দুটি দ্রুত অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে (পল্লী বিদ্যুৎ ও সড়ক বিভাগ) নির্দেশনা দেওয়া হবে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে দ্রুত এই বিপজ্জনক মরা গাছ দুটি কেটে অপসারণ করে।

