আবু রায়হান, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের বীরপাশা গ্রামে এক হিন্দু পরিবারের পৈতৃক জমি ও পারিবারিক শ্মশান দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল খালেক।
আব্দুল খালেক বলেন, হিন্দু পরিবারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, তিনি ও তার ভাই জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম করেননি এবং দখলদারিত্বের অভিযোগেরও কোনো সত্যতা নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০-৩১ বছর আগে তারা দুই ভাই মিলে স্থানীয় পরিমাপ অনুযায়ী ১৩৭ কড়া জমি ক্রয় করেন এবং তখন থেকেই বৈধভাবে ভোগদখলে রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, গত ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত একটি স্থানীয় সালিশি বৈঠকের পর অসত্য তথ্য প্রচার করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। শ্মশান দখল বা সমাধি গুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। বরং একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে লাল মোহন মিত্র, কার্তিক মিত্র ও গণেশ মিত্র মিলে আব্দুল খালেক মৃধা ও লতিফ মৃধার কাছে স্থানীয় পরিমাপ অনুযায়ী সাড়ে ৪১ কড়া জমি বিক্রি করেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বর্তমানে ক্রেতারা সাড়ে ৪১ কড়ার পরিবর্তে ৪৮ কড়া জমি জোরপূর্বক ভোগদখল করছেন।
এর আগে ভুক্তভোগী গীতা রানী মিত্র অভিযোগ করেন, বিক্রিকৃত জমির বাইরে তাদের পারিবারিক শ্মশান অবস্থিত। সেখানে শশী ভূষণ মিত্রসহ পরিবারের তিন সদস্যের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে এবং তাদের স্মৃতি সংরক্ষিত রয়েছে। তার দাবি, প্রভাবশালীরা ওই শ্মশানের জমিও নিজেদের দাবি করে দখলে নিয়েছেন এবং সেখানে থাকা সমাধি গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

