মোঃ শরিফ বিল্লাহ, ডোমার উপজেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে জুলাইকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাবাসী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, চিলাহাটির বোতলগঞ্জ বাজারের পশ্চিম পাশের বাসিন্দা সজীব শাহরিয়ার (পিতা: আনোয়ার হোসেন) তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে জুলাইকে বিদ্রূপ করে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের দাবি, পোস্টটিতে জুলাইয়ের চেতনা ও গণঅভ্যুত্থানকে কটাক্ষ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পোস্টটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে সজীব শাহরিয়ার সেটি তার ফেসবুক আইডি থেকে মুছে ফেলেন। তবে এর আগেই পোস্টটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
ডোমার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম কালু বলেন, “জুলাই আন্দোলন গণতন্ত্র ও মুক্তির পথের প্রতীক। এ আন্দোলন বা এর শহীদদের নিয়ে কেউ কটূক্তি বা অবমাননাকর মন্তব্য করলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা হওয়া উচিত।”
নীলফামারী জেলা এনসিপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসিফ ইকবাল বলেন, “জুলাই আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতার প্রতীক এবং একটি বিপ্লবের নাম। জুলাইকে অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডোমার উপজেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, “জুলাই বাংলাদেশের মানুষের আবেগ ও আত্মত্যাগের প্রতীক। একে অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সজীব শাহরিয়ার অতীতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পতিত স্বৈরাচার সরকারের পক্ষে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য করেছেন। তবে এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সজীব শাহরিয়ারের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল কাদের বলেন, “বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

