মো: এ কে নোমান, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর-চাঁনদাইশ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি সেবার নামে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ সূত্রধরকে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন।
জানা গেছে, গত সোমবার (২৩ জুন) সরেজমিনে খাজুর-চাঁনদাইশ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে একটি টেবিলে ঘুষ হিসেবে নেওয়া ৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এ সময় রায়হান নামে এক ব্যক্তি নিজেকে অফিসের স্টাফ পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, জমির খাজনা ও অন্যান্য ফি বাবদ টাকা গ্রহণ করে তিনি নিজের বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেন। তবে তার নিয়োগের বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। কেবল দাবি করেন, তিনি চুক্তিভিত্তিকভাবে কাজ করছেন।
এ বিষয়ে খাজুর-চাঁনদাইশ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ সূত্রধর বলেন, সেবা নিতে আসা মানুষের অনলাইন ফি তারা নগদে গ্রহণ করেন এবং পরে বিকাশের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেন। তিনি দাবি করেন, সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং সেবা নিশ্চিত করতেই এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে অফিসে রায়হানের উপস্থিতি ও তার দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
মহাদেবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ বলেন, “রায়হান নামে ওই অফিসে কোনো অনুমোদিত ব্যক্তি নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, নগদ অর্থ গ্রহণের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ সূত্রধরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে, দেশের সুনামধন্য টেলিভিশন চ্যানেল এস টেলিভিশন, ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ঢাকা টুডেসহ বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৪ জুন) লিখিতভাবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়।
মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মানজুরা মুশাররফ বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সব ধরনের সেবা সম্পূর্ণ ক্যাশলেস পদ্ধতিতে দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই নগদ অর্থ গ্রহণের সুযোগ নেই। এ নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

