মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবার চেনা ছন্দে ফিরেছে। ‘সি’ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে আন্ডারডগ হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে হেক্সা (ষষ্ঠ শিরোপা) মিশনের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে সেলেসাওরা।
ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শনিবার (২০ জুন) ভোরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধেই ৩ গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় কার্লো আনচেলত্তির দল। তবে দ্বিতীয় হাফে আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
ম্যাচ সংক্ষেপ:
ব্রাজিল: ৩-০ হাইতি
গোলদাতা: মাতেউস কুনিয়া (২টি), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (১টি)।
মরক্কো ম্যাচের ধাক্কা সামলে হাইতির বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। ম্যাচের প্রথমার্ধেই সেলেসাওদের হয়ে জোড়া গোল করেন স্ট্রাইকার মাতেউস কুনিয়া। কুনিয়ার এই দুই গোলের পেছনেই মূল কারিগর বা অ্যাসিস্ট দাতা হিসেবে ভূমিকা রাখেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (ইনজুরি টাইম) নিজেই গোলের খাতায় নাম লেখান ভিনি। লুকাস পাকেতার রক্ষণচেরা পাস থেকে বক্সে ঢুকে হাইতির গোলরক্ষককে একা পেয়ে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। ফলে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধের ৪০ মিনিটে বড় এক ধাক্কা খায় ব্রাজিল শিবির। খেলার মাঝেই চোটের (ইনজুরি) শঙ্কায় মাঠে বসে পড়তে দেখা যায় উইঙ্গার রাফিনিয়াকে। বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে তারকা এই ফুটবলারকে নিয়ে কোনো প্রকার ঝুঁকি নিতে চাননি কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তাই তৎক্ষণাৎ তাকে মাঠ থেকে তুলে নিয়ে বদলি হিসেবে নামানো হয় তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ালকে।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেও একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে ব্রাজিল। ম্যাচের এক পর্যায়ে কর্নার থেকে হাইতি গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করলেও ব্রাজিলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলোর দুর্দান্ত এক গোললাইন ক্লিয়ারেন্সে অল্পের জন্য রক্ষা পায় সেলেসাওরা।
পরবর্তীতে বদলি হিসেবে নামা তরুণ সেনসেশন এনদ্রিক হাইতির জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কাটায় সেই গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন রেফারি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এনদ্রিকের আরও একটি নিশ্চিত শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে হাইতির রক্ষণভাগ। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান আর বাড়েনি।
প্রথম ম্যাচে ড্রয়ের পর হাইতির বিপক্ষে এই সহজ ও দাপুটে জয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বের দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই টিকে রইল কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

