জাবেদ শেখ জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর:
শরীয়তপুরে পূর্ব শত্রুতা ও আর্থিক বিরোধের জেরে মনি আক্তার (৩১) নামে দুই সন্তানের এক জননীকে মারধর, চুল কেটে দেওয়া এবং বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের কয়েকজনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, তাকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে মুখে আলকাতরা মেখে গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে অপমান করারও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর পৌর এলাকার উত্তর পালং শাবনূর মার্কেট এলাকার বাসিন্দা মনি আক্তারের স্বামী প্রবাসে থাকেন। সম্প্রতি প্রতিবেশী দেলোয়ার দপ্তরি ও তার পরিবারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। শনিবার সকালে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে মনি আক্তারকে তাদের বাড়িতে ডাকা হয়।
সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দেলোয়ার দপ্তরির ছেলে পলক, মেয়ে মৌসুমী, স্ত্রী আমেনা ও আত্মীয় রহিমার বিরুদ্ধে তাকে মারধর ও চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে তার মুখে আলকাতরা মেখে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনি আক্তারকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
ভুক্তভোগী মনি আক্তারের দাবি, তিনি কোনো ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। বরং আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে থাকা স্ট্যাম্প ফেরত নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে এনে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রাণ বাঁচাতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও সেখান থেকে টেনে এনে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের দাবি, মনি আক্তার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করে থাকেন। দেলোয়ার দপ্তরির মেয়ে মৌসুমী আক্তারের ভাষ্য, আপোষের জন্য ডাকা হলেও বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তার অভিযোগ, মনি আক্তার তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছেন বলেই তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল।
এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তিনি সুস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

