অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া বাজেট বক্তৃতায় তিনি বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও কর কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন।
নতুন বাজেটে কিছু পণ্যে শুল্ক-কর বাড়ানোর প্রস্তাব থাকায় সেগুলোর দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক পণ্য ও সেবায় করছাড় দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী সিগারেটের বিভিন্ন স্তরের ন্যূনতম খুচরা মূল্য বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিকোটিন পণ্যেও উচ্চ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব এসেছে, যা এসব পণ্যের দাম বাড়াবে।
পরিবেশগত কারণে ডিজেল ও পেট্রলচালিত মাঝারি মানের গাড়ির ওপর করভার বৃদ্ধি করা হয়েছে, ফলে এসব যানবাহনের দাম বাড়তে পারে। এছাড়া বিদেশি কাজুবাদাম, পাঙাশের ফিলে, এলপিজি সিলিন্ডার, মধু, সুপারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, প্রসাধনী ও রড উৎপাদন উপকরণের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট পণ্যের দামে প্রভাব ফেলবে।
বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার, ফোম, ইলেকট্রনিক্স, খেলনা ও অন্যান্য আমদানি নির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রেও খরচ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে
নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে করের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ০.৫ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, মাছ, মাংস, তেল, লবণসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি আসতে পারে।
শিশুখাদ্যের কাঁচামালে আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে, আর জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গসহ বেশ কিছু মসলায় শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। খেজুর আমদানিতেও করছাড় দেওয়া হয়েছে।
সোনার গয়নায় উৎসে কর ও ভ্যাট কমানো হয়েছে, ফলে এর দাম কিছুটা হ্রাসের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ প্রযুক্তিপণ্যে বড় ধরনের করছাড় দেওয়া হয়েছে, যা এসব পণ্যের দাম কমাতে পারে।
কিডনি ডায়ালাইসিস সেবার উপকরণ, কিছু ওষুধের কাঁচামাল, বাদ্যযন্ত্র ও সিনেমাটোগ্রাফিক সরঞ্জামেও করছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব ও চিকিৎসা-সম্পর্কিত পণ্যের আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে, যা এসব খাতে ব্যয় কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুল্ক-কর হ্রাসের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাজারে কিছু স্বস্তি ফিরতে পারে, তবে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপও থেকে যাবে।

