২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার একটি জনকল্যাণমুখী বাজেট উপস্থাপন করেছে, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনের প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, সৃজনশীল অর্থনীতি, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা, নারী-শিশু কল্যাণ, অবকাঠামো, জ্বালানি এবং পরিবেশসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চাল, ডাল, মাছ, মাংস, চিনি, লবণ, ভোজ্যতেল ও মসলাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যাতে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সাধারণ মানুষের ব্যয় কমে।
বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য সার, বীজ, সেচ ও কৃষি বীমা সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রণোদনা ও সহায়তা বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন।
উপদেষ্টা বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে ঋণপ্রদান এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই এবারের বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য। তরুণ ও নারীদের জন্য স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা কার্যক্রমে বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং করের আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে জনগণের অর্থ আরও বেশি উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহৃত হয়।
মাহদী আমিনের মতে, গণতন্ত্র ও জনগণের আস্থাকে ভিত্তি করে প্রণীত এই বাজেট দেশের টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের পথে নতুন গতি যোগ করবে।

