বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে একাধিক আয়োজক দেশ আগেও দেখা গেছে, তবে ২০০২ আসরে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে আয়োজন করলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল এককভাবে। এবার সেই পুরনো ধারা ভেঙে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—একসঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে এবং তিন দেশেই পৃথকভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজক দেশগুলোর তিনটি শহর—মেক্সিকো সিটি, টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলস—একই দিনে ভিন্ন সময়ে নিজ নিজ উদ্বোধনী আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বকাপের সূচনা ঘোষণা করবে। তবে অনুষ্ঠানগুলো একসঙ্গে নয়, আলাদা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যা প্রায় ৯০ মিনিট পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে স্বাগতিকদের ম্যাচের আগে শেষ হবে। কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে পরদিন রাত ১১টা ৩০ মিনিটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়ে পরে স্বাগতিক কানাডা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে ভোরের দিকে অনুষ্ঠান শুরু হবে, যেখানে পরদিন সকালে মাঠে নামবে স্বাগতিক দল।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজন দীর্ঘদিন ধরে একক শহরে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও তিন দেশের যৌথ আয়োজনে এই রীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।
মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠানে দেশটির ঐতিহ্য ও আদিবাসী সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি আধুনিক সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেবেন শাকিরা, বার্না বয়সহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীরা। কানাডার অনুষ্ঠানে অ্যালানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহিসহ একাধিক শিল্পী পারফর্ম করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে কেটি পেরি, ফিউচার, লিসা ও অন্যান্য বিশ্ব তারকারা অংশ নেবেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, তিনটি অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা এক—ফুটবলের মাধ্যমে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য তুলে ধরা। প্রতিটি দেশ নিজস্ব সংস্কৃতি উপস্থাপন করলেও আয়োজনের কেন্দ্রীয় থিম একই থাকবে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে এখন ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, যা প্রযুক্তি ও প্রযোজনার দিক থেকে এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তৃত আয়োজনগুলোর একটি করে তুলছে।

