এস কে রাসেল, দৌলতপুর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা কাচারীপাড়া এলাকায় সংঘটিত আলোচিত মা ও শিশু হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি মো. সবুজ (২০)-কে গ্রেপ্তার করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার সাভার এলাকার ছায়াবিথী রেডিও কলোনি থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বাচামারা এলাকার বাসিন্দা ও পিন্টুর ছেলে। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার নথি ও পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, গত ৩০ মে রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে আমেনা খাতুন (৩২) ও তাঁর ১৫ মাস বয়সী শিশুপুত্র আসলাম হোসেন আসাদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। হামলায় মা ও শিশু ঘটনাস্থলেই নিহত হন। একই ঘটনায় আমেনার স্বামী আব্দুল সালাম মোল্লাও গুরুতর আহত হন।
তদন্তে উঠে এসেছে, পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঈদ উপলক্ষে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পর প্রধান অভিযুক্ত ইউসুফ মোল্লা আমেনা খাতুন ও তাঁর শিশুপুত্রের ওপর হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বাড়িতে ফিরে আসা আব্দুল সালাম মোল্লার ওপরও হামলা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-১৩, তারিখ ৩১ মে ২০২৬; ধারা ৩০৭/৩০২/৩২৫, পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়।
মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম, বিপিএম-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মহরম আলীর সার্বিক দিকনির্দেশনায় তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) এ কে এম বজলুর রশিদ ও তার নেতৃত্বাধীন টিম আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পলাতক আসামির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার সরকার জানান, এ মামলার প্রধান আসামি ইউসুফ আলী এবং অপর আসামি সুমনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া সবুজ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালতে জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বহুল আলোচিত এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই প্রতিবেদনের জন্য আরও সংক্ষিপ্ত, পত্রিকা-স্টাইলের বা অনলাইন নিউজ পোর্টাল উপযোগী ২-৩টি বিকল্প শিরোনামও দিতে পারি।

