মোঃ শরিফ বিল্লাহ, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের ভুজারীপাড়া এলাকায় ছাগল বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারপিটের ঘটনায় আহত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম সুধীর চন্দ্র রায় (৫৪) তিনি ভুজারীপাড়া এলাকার মৃত সুবেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে রবিবার দুপুরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী জমিতে প্রতিবেশী মশিউর রহমানের স্ত্রী ফাতেমা বেগম ছাগল বাঁধেন। এ নিয়ে সুধীর চন্দ্র রায়ের দ্বিতীয় স্ত্রী রাধিকা রানী বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুধীর চন্দ্র ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এরই এক পর্যায়ে ফাতেমা বেগমের ছেলে ফাহিম সুধীর চন্দ্র কে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে বোড়াগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার জন্য রওনা দেন। অভিযোগ রয়েছে, পথিমধ্যে গোমনাতি বাজারের আগে ডারারপার নামক স্থানে মশিউর রহমানের শ্বশুরবাড়ি এলাকার প্রায় ২০-২৫ জন লোক তাদের বহনকারী গাড়ির গতিরোধ করে।
এ সময় সুধীর চন্দ্রকে পুনরায় মশিউরের শশুর, শ্যালোক, শালিকাসহ ৬-৭ জন পূণরায় বেধরক মারধর করে এবং তার স্ত্রীও হামলার শিকার হন। অতঃপর হামলাকারিরা গোমনাতি ইউপি চেয়ারম্যান জনাব শুভকে ছাড়া যেতে দিবে না এই দাবি করলে, চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন, রাধিকা জানান চেয়ারম্যান আসলেও তাদের সাথে কোন কথা বলেননি। অতঃপর পুনরায় সুধীর চন্দ্রকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পরিবারের দাবি, মারধরের পর থেকেই তিনি তীব্র বুকের ব্যথায় ভুগছিলেন। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। গত শনিবার রাত ১ টায় বুকের ব্যথা বেড়ে গেলে তাকে পুনরায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
ঘটনার খবর পেয়ে ডোমার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
সুধীর চন্দ্রের মৃত্যুর পর মশিউর রহমানের পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে।
এ বিষয়ে গোমনাতি ইউপি চেয়ারম্যান বাবুর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি সেখানে যাইনি তবে জানতে পারলাম, তিনি হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করেছে।
এ বিষয়ে ডোমার থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আজগর আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি সাত দিন আগে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুধীর চন্দ্র রায়ের মারপিটের ঘটনা ঘটেছিল।রাত ১ টায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

