সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চলন্ত ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের ঝুঁকি আবারও প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। উপজেলার উত্তরসুর এলাকার দ্বারিকা পাল মহিলা ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন রেলপথে দুই দিনের ব্যবধানে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
রোববার (০৭ জুন) দুপুরে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা যুবকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হন সামছু মিয়া (৩০)। তাদের বাড়ি রংপুর জেলায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান,নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে,আহত সামছু মিয়াকে হাসপাতালে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগের দিন শনিবার (০৬ জুন) বিকেলে একই স্থানে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন এনামুল মিয়া ফাহিম (২৫) ও মো. সিয়াম (১৮)। পরে ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে এনামুল মিয়া ফাহিমের অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।
ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন,“গতকাল শনিবার একই স্থানে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন পরে মারা যান। আজ আবার একই স্থানে আরেকটি দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।”
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে,ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও কিছু যাত্রী এখনও এ ধরনের বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রাখছেন। দুই দিনের ব্যবধানে একই স্থানে দুটি দুর্ঘটনা ও দুইজনের প্রাণহানির ঘটনায় ট্রেনের ছাদে যাতায়াত বন্ধে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জোরালো হয়েছে।

