চলতি তীব্র গরমে সুস্থ থাকাটাই এখন সবার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ একটি ধারণা রয়েছে যে, তাপমাত্রা যখন ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, কেবল তখনই হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, মাত্র ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও হিটস্ট্রোক হতে পারে। বিশেষ করে শরীরে পানিশূন্যতা থাকলে, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি হলে কিংবা বদ্ধ পরিবেশে শারীরিক পরিশ্রম করা হলে এই ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
১. শরীর যেসব প্রাথমিক সংকেত দেয়
হিটস্ট্রোক হঠাৎ করে হয় না; এর আগে শরীর কিছু বিশেষ সংকেত দেয়। এশিয়ান হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. প্রাণজিৎ ভৌমিকের মতে, শরীর বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছানোর আগে নিচের স্পষ্ট সংকেতগুলো দেয়:
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।
অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা অবসাদ।
মাথা ঘোরা বা হালকা বোধ হওয়া।
মাথাব্যাহা ও বমি বমি ভাব।
মাংসপেশিতে টান লাগা বা ক্র্যাম্প।
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে আসছে।
২. হিটস্ট্রোকের অন্যতম কারণ: বাতাস চলাচলের অভাব
বাতাস চলাচলের অভাব বা ‘পুওর ভেন্টিলেশন’ হিটস্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করলে শরীর থেকে ঘাম ঠিকমতো বাষ্পীভূত হতে পারে না, ফলে শরীরের স্বাভাবিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে সরাসরি রোদ, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং দীর্ঘক্ষণ শারীরিক পরিশ্রম যুক্ত হলে সাধারণ তাপমাত্রাতেও শরীর ভেঙে পড়তে পারে।

৩. গরমে সাধারণ কিছু মারাত্মক ভুল
আমরা অনেক সময় না জেনেই কিছু ভুল করে বসি, যা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়:
পর্যাপ্ত পানি বা তরল পান না করা।
অতিরিক্ত টাইট বা গাঢ় রঙের পোশাক পরা।
বাইরে বের হওয়ার সময় মাথা না ঢাকা।
দুপুরের কড়া রোদে বিরতিহীনভাবে কাজ করা।
এসি-তে (AC) থাকলে পানি পানের কথা ভুলে যাওয়া।
মনে রাখা জরুরি, ঘরের ভেতরে থাকলেও শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়, তাই সার্বক্ষণিক হাইড্রেশন বজায় রাখা প্রয়োজন।
৪. প্রতিরোধে ঘরোয়া পানীয় ও চিকিৎসকদের পরামর্শ
হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে শুধু সাধারণ পানি পান অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যে লবণ ও ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করা জরুরি। এক্ষেত্রে লেবুর শরবত, ঘোল বা ছাঁচ (buttermilk) এবং কাঁচা আমের পান্না (aam panna) অত্যন্ত কার্যকর। এই পানীয়গুলো শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা রাখে।
চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শ:
হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন।
বাইরে যাওয়ার সময় অবশ্যই ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন।
কাজের মাঝে নিয়মিত বিরতি নিন এবং ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় পান করুন।
বদ্ধ ঘরে না থেকে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা আছে এমন স্থানে থাকার চেষ্টা করুন।
শরীরের প্রাথমিক সংকেতগুলো চিনতে পারা এবং সামান্য অসুস্থ বোধ করলেই ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিয়ে প্রচুর পানি ও তরল পান করাই পারে আপনাকে এই মারাত্মক বিপদ থেকে রক্ষা করতে।

