কয়েকদিন ধরে চলা অসহনীয় তীব্র গরম ও কাঠফাটা রোদের পর অবশেষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরের পর শুরু হওয়া এই বৃষ্টিপাতে ভ্যাপসা গরম থেকে কিছুটা মুক্তি মিলেছে এবং অতিষ্ঠ জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। দুপুরের দিকে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ছুটির দিনে দুপুরের এই বৃষ্টির কারণে রাস্তায় মানুষের চলাচল কিছুটা কমলেও ফুটপাত ও বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষারত মানুষের মুখে ছিল স্বস্তির ছাপ। বৃষ্টির ফলে গরমের তীব্রতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, মোহাম্মদপুর ও পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সামান্য বৃষ্টি হলেও ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। বিকেলের দিকে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শুধু ঢাকা নয়; বরিশাল, ভোলা, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলেও বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে, যার ফলে চলমান তাপপ্রবাহ প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, আগামী ৭ থেকে ১০ জুনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু পূর্ণাঙ্গভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এর আগে থেকেই রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
ঈদের পর থেকে সারা দেশে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরম শুরু হয়। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল দিনাজপুর ও যশোরে ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এই বৃষ্টি কৃষিখাতের জন্য ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। বৃষ্টির অভাবে ফসলি জমি শুকিয়ে যাওয়ায় সেচ ব্যয় ও ফসলহানির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এই বৃষ্টিতে সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমবে। তবে বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতের সময় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফি

