ইরান কি গোপনে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করে ফেলেছে? মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা ল্যারি সি. জনসন এবং প্রখ্যাত সাংবাদিক পেপে এসকোবারের সাম্প্রতিক একটি গোপন গোয়েন্দা রিপোর্ট ঘিরে এই প্রশ্নটি এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। রিপোর্টটির দাবি অনুযায়ী, ইরান এখন কেবল পারমাণবিক বোমা অর্জনের দ্বারপ্রান্তেই নেই, বরং প্রয়োজনে পরীক্ষা চালানোর মতো প্রস্তুতিও তাদের রয়েছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৫ মে ২০২৬-এর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ একটি জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে একটি কড়া বার্তা পাঠায় তেহরান। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে পৌঁছানো সেই বার্তায় ইরান তিনটি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেয়:
১. চলমান সকল পারমাণবিক শান্তি আলোচনা থেকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার।
২. প্রস্তাবিত পারমাণবিক চুক্তির সমগ্র কাঠামো বর্জন।
৩. নিজস্ব মাটিতে একটি পারমাণবিক ডিভাইসের বিস্ফোরণ ঘটানো (যাকে তারা সার্বভৌম ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে দেখবে)।
ল্যারি জনসনের মতে, এটি কোনো সাধারণ হুমকি নয় বরং একটি “বাইনারি ভূ-রাজনৈতিক শক ওয়ার্নিং”, যা হোয়াইট হাউসকে তাদের রণকৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান একা এই পথ পাড়ি দেয়নি। একটি অজ্ঞাত ‘তৃতীয় দেশ’—যাদের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রমাণিত—তারা ইরানকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য ও সহায়তা প্রদান করেছে। তেহরানের মূল লক্ষ্য হলো চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের সমর্থন নিশ্চিত করে ইসরায়েলের জন্য যেকোনো ভবিষ্যৎ হামলার ঝুঁকিকে অসহনীয় করে তোলা।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সৌদি আরব ইসরায়েলের সাথে স্বাভাবিককরণ আলোচনা স্থগিত করেছে এবং কাতার ও ওমান থেকে মার্কিন ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
ল্যারি জনসন মনে করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অত্যন্ত কঠিন কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ:
ইসরায়েলকে দেওয়া সহায়তা বন্ধ করে লেবানন ও গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
ইরানের ওপর থেকে তেল রপ্তানি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকার করে নেওয়া।
বিশ্লেষকের মন্তব্য ও বর্তমান বাস্তবতা
যদিও ল্যারি জনসনের এই রিপোর্টটি অত্যন্ত বিস্তারিত এবং এর সূত্রগুলো প্রভাবশালী, তবুও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) বা কোনো রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এখনো এর দাপ্তরিক নিশ্চিতকরণ আসেনি। আপনার ব্যক্তিগত ধারণার সাথে সুর মিলিয়ে বলা যায়, ইরান সম্ভবত তাদের সক্ষমতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তবে যতক্ষণ না ইরান কোনো প্রকাশ্য ‘নিউক্লিয়ার টেস্ট’ বা ঘোষণা দিচ্ছে, ততক্ষণ এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ (Strategic Ambiguity) হিসেবেই থেকে যাবে। ইরান এখন স্পষ্টভাবেই চীন ও রাশিয়ার বলয়ে থেকে মার্কিন চাপের বিরুদ্ধে নিজের শক্তি প্রদর্শনে বদ্ধপরিকর।

