ওমর ফারুক | নরসিংদী
নরসিংদীর সদর উপজেলার শিলমান্দী ইউনিয়নের মধ্য-শিলমান্দী এলাকার ইজিবাইক চালক ফাহিম মিয়া (১৭) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।
বুধবার (৩ জুন) সকাল ৭টায় শিলমান্দী ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় “আমরা শিলমান্দী ইউনিয়নবাসী” ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ফাহিম ছিল একজন পরিশ্রমী ও নিরীহ কিশোর। ইজিবাইক চালিয়ে সে পরিবারের ভরণ-পোষণে সহযোগিতা করত। এমন একজন কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।
তারা আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ আরও বাড়বে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিলমান্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম, নিহত ফাহিমের বাবা রুহুল আমিন, সমাজসেবক কাউছার আহমেদ রিপন, আবুল কালাম, কামরুল ইসলাম, শামসুল হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, দেশে অপরাধ সংঘটনের পর অনেক ক্ষেত্রেই বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যায়। ফলে অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেয়ে যায় এবং সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তারা দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
নিহত ফাহিমের বাবা রুহুল আমিন আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “আমার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি। সে দিন-রাত পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য উপার্জন করত। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক। একজন বাবার আর কিছু চাওয়ার নেই, আমি শুধু আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই।”
বক্তারা আরও বলেন, মাদকের ভয়াবহ বিস্তার দেশের তরুণ ও কিশোর সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
সমাজসেবক কাউছার আহমেদ রিপন বলেন, “একজন তরুণের জীবন এভাবে ঝরে যাওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ফাহিম হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২ জুন সদর উপজেলার মধ্য-শিলমান্দী এলাকার জোড়া ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন একটি পুকুরপাড় থেকে ফাহিম মিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত ফাহিম স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিনের ছেলে এবং পেশায় একজন ইজিবাইক চালক ছিলেন।
মানববন্ধন থেকে ফাহিম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

