স্টাফ রিপোর্টার:
রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলায় মদ, গাঁজা, ইয়াবা ও বিদেশি সিগারেট পাচারের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পাহাড়ি ও সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে এসব মাদকদ্রব্য পার্শ্ববর্তী উপজেলা রাঙ্গুনিয়া, চন্দ্রঘোনা ও চট্টগ্রাম শহরে পাচার করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা—বাঙ্গালহালিয়া, ইসলামপুর, খ্যাংদং পাড়া, নাইক্যছড়া, কাকড়াছড়ি, ডংনালা পাড়া, কারিগর পাড়া, গবছড়া ও সীমান্ত সড়ক এলাকায় প্রতিদিনই মাদক চক্রের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, রাতে বিভিন্ন যানবাহনে দেশীয় তৈরি বাংলা মদ ও অন্যান্য মাদক পাচার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা মদ বিভিন্ন জায়গায় বোতলজাত ছাড়াও স্যালাইনের প্যাকেটে ভরে বস্তাবন্দি করে পাচার করা হচ্ছে। বাঙ্গালহালিয়া বাজারে প্রতি লিটার বাংলা মদ ১০০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হলেও পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও চট্টগ্রাম এলাকায় তা আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচারকারীদের চলাচল বাড়ে এবং গোপনে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক বিক্রি হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে রাজস্থলী বিএনপির সভাপতি মাষ্টার খলিলুর রহমান শেখ বলেন, কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়ে প্রভাব বিস্তার করছে, যা যুব সমাজকে ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
উপজেলার এক স্থানীয় নেতা জানান, প্রতিদিনই পাহাড়ি এলাকায় বিপুল পরিমাণ বাংলা মদ ও ইয়াবা বিভিন্ন পথে পাচার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকের জানান, এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল চলছে। তবে মদ বা গাঁজা পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ইয়াবা সংক্রান্ত বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং তথ্য পেলে অভিযান চালানো হবে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় মদসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

