জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সৌদি প্রবাসী মাসুম মন্ডলকে (২৩) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার অধিকাংশ আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার (১ জুন) বিকেলে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর বাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিহত মাসুম মন্ডলের গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে তার মা রুমি আক্তার, ছোট বোন মাধুরী আক্তারসহ স্থানীয় শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুমি আক্তার বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমার একমাত্র ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ কেন তাদের ধরছে না, সেটাই আমার প্রশ্ন। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”
নিহতের ছোট বোন মাধুরী আক্তার বলেন, “আমার ভাই কবরে, আর খুনিরা বাইরে ঘুরছে। আমরা দ্রুত বিচার চাই। আগে আমার দাদা ও চাচার হত্যার বিচার হয়নি বলেই খুনিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আক্কেলপুর উপজেলার শ্রীধরপুর গ্রামের মাসুম মন্ডলের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার গোলাম মোস্তফার দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ২৬ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিলকপুর খিরাহাটি রেলগেট এলাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন মাসুমকে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরদিন নিহতের মা রুমি আক্তার বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটজনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে প্রধান আসামি গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
স্বজনদের দাবি, একই জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগে মাসুমের দাদা ও চাচাও নিহত হন। ওই ঘটনাগুলোতে নওগাঁ সদর ও আক্কেলপুর থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা রয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মামলার অন্যতম আসামি ইয়াছিন আলী নান্নু নওগাঁ সদর উপজেলার ৪ নম্বর তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আক্কেলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গণেশ চন্দ্র বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকলেও তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে— এমন অভিযোগ সঠিক নয়।”

