সত্যজিৎ দাস, মৌলভীবাজার, প্রতিনিধি:
লোকালয়ে ঢুকে পড়া বিশাল অজগর উদ্ধার, শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পাচাউন এলাকায় একটি বসতঘর থেকে বিশাল আকৃতির অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে উদ্ধার হওয়া সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জানা যায়,শ্রীমঙ্গলের পাচাউন এলাকার বাসিন্দা খলিল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঘরের সিলিংয়ের বাঁশের ওপর একটি বড় অজগর সাপ দেখতে পান। হঠাৎ সাপটি চোখে পড়তেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং কেউ কেউ সাপটিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।
এ সময় গ্রামের এক ব্যক্তি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে বিষয়টি জানালে সংগঠনটির পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তারা অজগরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। সাপটিকে একনজর দেখতে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। উদ্ধার শেষে অজগরটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন,শ্রীমঙ্গল এলাকায় সাধারণত বর্মী অজগর ও জালনাতি অজগর প্রজাতির সাপ দেখা যায়। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান,আশপাশের চা বাগান ও পাহাড়ি টিলা এদের স্বাভাবিক আবাসস্থল। ঘন বনাঞ্চল ও পর্যাপ্ত আশ্রয় থাকায় এসব এলাকায় অজগরের বিচরণ দীর্ঘদিনের।
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ জানান, শ্রীমঙ্গলে অজগরের নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে খাবারের সন্ধানে বন থেকে লোকালয় বা চা বাগানে অজগর চলে আসার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। অনেক সময় ১০ থেকে ১২ ফুট দীর্ঘ অজগর উদ্ধার করে লাউয়াছড়া বনে অবমুক্ত করা হয়।
তিনি আরও জানান,অজগর বিষহীন সাপ এবং সাধারণত মানুষের ওপর আক্রমণাত্মক নয়। এরা ওত পেতে শিকার ধরে শরীরের প্যাঁচে আটকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পরে আস্ত গিলে ফেলে। অজগর ভালো সাঁতারু এবং ছোট ছড়া,লেক কিংবা জলাশয়ের আশপাশে থাকতে পছন্দ করে। এছাড়া ঘন ঝোপঝাড়,বাঁশঝাড় ও গাছের কোটর এদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বনভূমির সংকোচন,আবাসস্থল ধ্বংস এবং প্রাকৃতিক খাদ্যের অভাবে অজগর অনেক সময় লোকালয়ে চলে আসে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হাঁস-মুরগি কিংবা ছোট গবাদিপশুর সন্ধানে এসব সাপ চা বাগান ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় দেখা দেয়। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

