মো. আব্দুল কুদ্দুস, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজের (সাবেক শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ) শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালকে ক্লাসরুমের ভেতর গুলি করার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাষক ডা. রায়হান শরীফকে অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) দুপুরে সিরাজগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ ইকবাল হোসেন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে উল্লেখ রয়েছে, অস্ত্র আইনের দুটি পৃথক ধারায় আসামিকে মোট ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, বিচার চলাকালীন সময়ে আসামি যতটুকু সময় হাজতে কাটিয়েছেন, তা মোট দণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ দেওয়া হবে।
দণ্ডপ্রাপ্ত ডা. রায়হান শরীফ ওই কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
”আদালত অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় ডা. রায়হান শরীফকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। বিচারকালীন হাজতবাসের সময়টুকু এই দণ্ডের মূল মেয়াদ থেকে মাইনাস করা হবে।”
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শাকিল মোহাম্মদ শরিফুল হায়দার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনাটি ছিল ২০২৪ সালের ৪ মার্চ মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলায় পরীক্ষা চলাকালীন একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলা সূত্রে জানা যায়: ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাতে ডা. রায়হান শরীফ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করেন।
একপর্যায়ে তিনি নিজের ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করে ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলিটি তমালের ডান পায়ে লাগে এবং তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন।
এই ঘটনার পর ক্যাম্পাসে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দোষী শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় আন্দোলন করেন।
ঘটনার পরপরই সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়াদুদ আলী বাদী হয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত এই রায় প্রদান করলেন।

