মীর ইমরান, মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতরা হলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা চিন্ময় দাস (৩২), তার স্ত্রী ইশা দাস (২৪) এবং তাদের ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের আমিরাবাদ এলাকার সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা শান্তনা রানী চন্দের বাড়িতে প্রায় তিন বছর ধরে ভাড়া থাকেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সাতপাড় এলাকার বাসিন্দা মিষ্টি বাড়ৈ। রোববার সন্ধ্যায় তার দূর-সম্পর্কের চাচাতো ভাই চিন্ময় দাস স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে মাদারীপুরে এসে ওই বাসায় ওঠেন।
রাত ১০টার দিকে তারা একটি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে মিষ্টি বাড়ৈ বারবার ডাকাডাকি করেন। পরে সন্দেহ হলে তিনি বাড়ির মালিককে জানান এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত প্রায় ১টার দিকে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় চিন্ময় দাস ও তার শিশুসন্তানকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং ইশা দাসকে খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
ভাড়াটিয়া মিষ্টি বাড়ৈ বলেন, “চিন্ময় দাস তার পরিবার নিয়ে ডাক্তার দেখাতে মাদারীপুরে এসেছিলেন এবং আমার বাসায় ওঠেন। রাতে অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে আমি বাড়ির মালিককে জানাই এবং পরে পুলিশে খবর দেই। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে তদন্ত করছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

