মোঃ মনির হোসেন সোহেল, চাটখিল প্রতিনিধি:
সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “অন্তরে আল্লাহর ভয় বা তাকওয়া না থাকার কারণেই মানুষ আজ খুন, সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতিতে লিপ্ত হচ্ছে। সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করতে হলে সবার আগে ব্যক্তি গঠন ও সৎ চরিত্র অর্জন প্রয়োজন। কারণ, যে ব্যক্তির নিজের চরিত্র ঠিক নেই, তাকে যে পদেই বসানো হোক না কেন সে দুর্নীতি করবে।”
১৩ মে (বুধবার) রাতে নোয়াখালীর চাটখিল পৌর শহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার জামে মসজিদের মাঠে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি চাটখিল উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা আল্লামা ডক্টর আ ফ ম খালিদ হোসেন এই সব মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি চাটখিল উপজেলা সদর শাখার সভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলামের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
ড. আ.ফ.ম খালিদ হোসাইন তাঁর বক্তব্যে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে দীর্ঘ দিন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পদে থেকেও আমি এক টাকাও ঘুষ খাইনি। চট্টগ্রাম শহরে আমার নিজের কোনো বাড়ি নেই, আমি এখনো ভাড়া ঘরে থাকি। বর্তমান সমাজে চুরি ও লুটপাট ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে, কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে প্রত্যেককে একদিন কবরে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে।”
তিনি তাঁর আমলের প্রশাসনিক সংস্কারের সাফল্য উল্লেখ করে বলেন, “আল্লাহর ভয় অন্তরে ছিল বলেই আমরা হজ ব্যবস্থাপনায় সততা বজায় রেখে বিভিন্ন এজেন্সি এবং হাজিদেরকে টাকা ফেরত দিয়েছি। এছাড়া সৌদি আরবের বাড়িওয়ালাদের সাথে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে হাজিদের ঘরভাড়ায় সাশ্রয় করেছি। অপরদিকে, অপরাধীদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংস্কারের জন্য আমরা দেশের কারাগারগুলোতে ধর্মীয় বই বিতরণ করেছি এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে হেফজখানা চালু করেছি।”
সৎ চরিত্র গঠনের তাগিদ দিয়ে ড. খালিদ হোসেন হজের পবিত্রতা প্রসঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশে একটা মারাত্মক ভুল রেওয়াজ আছে—সারা জীবন মানুষ ঘুষ, সুদ ও ভেজাল ব্যবসা করে দাড়ি সাদা হলে জুব্বা গায়ে দিয়ে হজে যান। মনে রাখবেন, ডাকাত ও দুর্নীতিবাজদের এই অবৈধ ও হারাম টাকার হজ আল্লাহর দরবারে কস্মিনকালেও কবুল হবে না। একমাত্র হালাল টাকা দিয়ে সৎ উদ্দেশ্যে হজ করলেই কেবল জান্নাত লাভ সম্ভব।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সমাজ ও পরিবারে মর্যাদা ধরে রাখতে আমাদের চারিত্রিক সংযম বজায় রাখতে হবে, কারণ ৬০ বছরের অর্জিত ইজ্জত শেষ হতে মাত্র এক ঘণ্টাও সময় লাগে না।”
বৈরি আবহাওয়ার মাঝেও মহাসমাবেশে চাটখিল উপজেলা ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত ধর্মপ্রাণ মানুষ সমবেত হন। রাতে আলোচনা শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক কল্যাণ, শান্তি ও দুর্নীতিমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে মহাসমাবেশ শেষ হয়।

