পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এই ঈদ মূলত ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শিক্ষা বহন করে। ইসলামে “কুরবান” শব্দের অর্থ নৈকট্য, আর “কোরবানি” শব্দটি সেই নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করে।
ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, কোরবানির বিধান মানব সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই প্রচলিত। পবিত্র কোরআনে আদম (আ.)–এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের কোরবানির ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যেখানে একজনের কোরবানি কবুল হলেও অন্যজনেরটি কবুল হয়নি। (সূরা মায়িদা: ২৭)
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হলো হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাঈল (আ.)–এর মহান আত্মত্যাগ। আল্লাহর নির্দেশে ইব্রাহিম (আ.) পুত্রকে কোরবানি করতে প্রস্তুত হন, যা ছিল আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও ভালোবাসার সর্বোচ্চ প্রকাশ। পরবর্তীতে আল্লাহ তা’আলা তাঁর পরিবর্তে পশু কোরবানির ব্যবস্থা করেন।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির বিধান দিয়েছি, যাতে তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করে।” (সূরা হজ্জ: ৩৬)
রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরবানির গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কোরবানি করে না, সে যেন ঈদগাহের কাছেও না আসে। (ইবনে মাজাহ)
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, কোরবানি শুধুমাত্র পশু জবাই নয়; বরং এটি আত্মিক পরিশুদ্ধি, অহংকার ত্যাগ এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ সমর্পণের প্রতীক। জিলহজ মাসে হজ ও কোরবানির মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও তাকওয়ার শিক্ষা গ্রহণ করে।
এছাড়া কোরবানির দিনগুলোতে সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মে পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরবানির আগে জিলহজের প্রথম দশ দিনে ইবাদত-বন্দেগি, রোজা রাখা এবং বেশি বেশি আল্লাহর স্মরণ করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির মূল শিক্ষা হলো—আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সব ধরনের মোহ, লোভ ও অহংকার ত্যাগ করা এবং মানবিকতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে জীবনকে পরিশুদ্ধ করা।
ঈদুল আজহা তাই শুধু উৎসব নয়, এটি মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের এক অনন্য শিক্ষা।

